ফাইভার মার্কেট এ যারা কাজ করতে আগ্রহী, এমনকি যারা একবারে নতুন সেলার আছেন তারা অনেকেই ফাইভার এর অনেক টার্মস এর বিস্তারিত জানেন না। এর জন্য অনেকেই, বায়ার বা সিনিয়রদের অনেক কথা বুঝেন না। ফাইভার টার্মস সমুহ বা Fiverr Terms in Bangla হচ্ছে, ফাইভার এর সকল টার্মস এর বিস্তারিত। কোন টার্মস মিস গেলে কমেন্ট এ জানাতে ভুলবেন না।

বায়ারঃ ফাইভার মার্কেটপ্লেস এ যে সকল ব্যাবহারকারী সার্ভিস কিনেন বা সার্ভিস নেয় তাদের কে বায়ার বলে। আমরা সাধারানত যাদের কাজ করি। বায়ার কে ক্লায়েন্ট বলেন অনেকে। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ান ক্লায়েন্ট বেশী থাকে। তবে উন্নত দেশের এমন কি ইন্ডিয়ান/পাকিস্তানি বায়ার আছে মার্কেট এ।

সেলারঃ ফাইভার এ সেলার বলতে বুঝায় ফ্রিল্যান্সারদের। আমরা যারা কাজ করি তারাই ফ্রিল্যান্সার। ফাইভার এ একাউন্ট খুলে সার্ভিস অফার করলে ফাইভার সেলার। রেজিস্টার ছাড়া ফাইভার এ কেউ সেলার হতে পারে না। আর ফাইভার এ, একই একাউন্ট থেকে সেলিং এবং বায়িং করা যায়।

ফাইভার কি সেটা জানেন তো! ফাইভার মার্কেটপ্লেস এর এ টু জেড


কাস্টম অফার এবং কাস্টম অর্ডারঃ Fiverr Terms in Bangla বা ফাইভার টার্মস এ , কাস্টম অফার হচ্ছে কাস্টমাইজ প্রস্তাব যেটা সেলার ক্রিয়েট করেন। বায়ার এর রিকোয়ারমেন্ট যদি আলাদা হয়, গিগ এর প্রাইস থেকে ভিন্ন হয় তখন সেলার রা কাস্টম অফার দিয়ে থাকেন। বায়ার যদি কাস্টম অফার অর্ডার করে তাহলে সেটা কাস্টম অফার। সাধারনত, বায়ার এর সাথে কথা বলেই কাস্টম অফার পাঠান হয় তাই অর্ডারও হয় তারাতারি।

ডিস্পুটঃ কোন অর্ডার চলাকালীন সময়ে যদি বায়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, কাজ কন্টিনিউ না করেন তাহলে ডিস্পুট দেন। আবার অনেক সময় কাজ শেষ হয়ে গেলেও বায়ার ডিস্পুট দিতে পারেন। বায়ার এর ডিস্পুট সেলার আইডিতে প্রভাব ফেলে অনেক।

ফাইভার ব্যালেন্স/ক্রেডিটঃ সেলার এর কাজের ইনকাম কে ফাইভার ব্যালেন্স বলে। সোজা কথায়, ফ্রিল্যান্সার এর ইনকাম করা টাকা ফাইভার এ জমা হয়, সেটাই ব্যালেন্স।  বায়ার এর ক্ষেত্রে যদি সে ডিস্পুট দেয় বা অর্ডার ক্যান্সেল করেন, তখন সেই টাকা কার্ড এ ফিরে না গিয়ে ফাইভার একাউন্ট এ জমা হয়। এটাই তার ফাইভার ব্যালেন্স। ফাইভার অনেক সময় সেলার বা বায়ারদের কে ব্যালেন্স দিয়ে থাকে। যেটা টাকা নয় তবে সংখ্যা। এটা দিয়ে ফাইভার এর সার্ভিস কেনা যায়। মুলত, ফাইভার বোনাস হিসাবে ফাইভার ক্রেডিট দিয়ে থাকে।

গিগ এবং গিগ এক্সট্রাঃ Fiverr Terms in Bangla বা ফাইভার টার্মস এ , ফাইভার এ গিগ বলতে বুঝায় সার্ভিস ডিটেইলস। কি কি সার্ভিস দিতে চান এবং সেটা কত টাকায়, কত দিন এ। রিলেটেড কাজের ছবি বা ভিডিও মিলে গিগ তৈরি হয়। ফাইভার এ মুলত সেলার রা গিগ পোস্ট করেন আর বায়ার সেলার কে খুজে বের করেন।  গিগ এক্সট্রা বলতে বুঝায় গিগ এর সাথে এক্সট্রা সার্ভিস গুলোকে। যেমন, কেউ ফ্লায়ার ডিজাইন সার্ভিস অফার করে এক্সট্রা দিল টেক্সট লাগো ডিজাইন। তাহলে লাগো ডিজাইন কে গিগ এক্সট্রা বলা হয়। উল্লেখ্য, নতুন সেলার রা ২টি গিগ এক্সট্রা দিতে পারেন। লেভেল১ এ ৪টি, লেভেল২ এ ৫টি এবং টপ রেটেড হলে ৫টি গিগ এক্সট্রা অফার করা যায়। আবার লেভেল ভেদে এক্সট্রা সার্ভিস এর ম্যাক্সিমাম চার্জ ফিক্স করা আছে।

গিগ প্যাকেজঃ শুরুতে ফাইভার এ শুধু ৫ডলার এর সার্ভিস চালু ছিল। তখন, সার্ভিস গুলোকে ভেজ্ঞে ৫ডলার এর হিসাবে অফার করা হত। শুরুতে অনেক বছর এই সিস্টেম চালু ছিল এবং তখন বড় ফ্রিল্যান্সার রা এখানে কাজ করত না। ৫ডলার এর মার্কেট হিসাবে ফাইভার কে ট্রল করত। কিন্তু পরে ফাইভার তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। প্রথমে, গিগ এক্সট্রা এবং পরে গিগ প্যাকেজ চালু করে। গিগ প্যাকেজ হচ্ছে তাদের সার্ভিস চার্জিং এ সর্ব শেষ সিস্টেম চালু করেছে। এখানে, একই গিগ এ ৩ রকম সার্ভিস চার্জ এবং ৩ রকম সার্ভিস অফার করা যায়। গিগ সরাসরি বা প্যাকেজ হোক, বেইজ বা শুরুর দাম ৫ডলার ই রাখা হয়েছে।

লাগোঃ সেলার রা চাইলে ফাইভার এ লাগো ডিজাইন এর সার্ভিস অফার করতে পারে। তবে গত বছর ফাইভার লাগো মেকার নামের নতুন সিস্টেম চালূ করেছে। এখানে, অটোমেটেড টুলস দিয়ে, যে কোন সেলার লাগো বানিয়ে ফেলতে পারবে আবার সেলার রা অর্জিনাল লাগো ডিজাইন করে হোস্ট করে রাখতে পারবে আর রিসেল এর মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবে।

অর্ডার পেইজঃ মুলত, বায়ার যদি সেলার এর সাথে দাম এবং সার্ভিস এ রাজি হয় তখন অর্ডার করে, যেটাকে অর্ডার বলা হয়। একজন বায়ার অর্ডার কনফার্ম করার পর, নতুন একটা পেইজ আসে যেখানে অর্ডার এর বিস্তারিত তথ্য, সেলার এর সাথে যোগাযোগ এর বক্স, ফাইল আদান-প্রদান এর বক্স, অর্ডার চালু করা, ক্যান্সেল করা, সময় বাড়িয়ে দেয়া সহ যাবতীয় বিষয় থাকে। এটাকে অর্ডার পেইজ বলে।

স্প্যামঃ কোন সেলার বা বায়ার যদি, একই মেসেজ অনেক ইউজার কে সেন্ড করে তাহলে ফাইভার সেটাকে স্প্যাম করে দেয়। কন্টাক্ট ডিটেইলস শেয়ার করলে অনেক সময় এটা হতে পারে। মুলত, যখন ফাইভার কাওকে রোবট মনে করে, তার ব্যাপারে সতর্ক করতে যে এলার্ট দেয় সেটাই স্প্যাম।

পেমেন্ট সার্ভিস প্রভাইডারঃ ফাইভার এ যারা কাজ করে, তাদের পেমেন্ট গুলা যে সকম কোম্পানি সরবরাহ করে বা ফাইভার থেকে টাকা তুলতে যে সকম কোম্পানি মাধ্যম হিসাবে ব্যাবহার করা হয় তাদের কে পেমেন্ট সার্ভিস প্রভাইডার বলে। অনেক সময় দেখা যায়, কারেন্সি বদলাতে হয় বা উথড্র করা লাগে, তখন যাদের ব্যাবহার করা হয় তারাই পেমেন্ট প্রভাইডার। যেমন, পেওনিয়ার, ব্যাংক ইত্যাদি।

রেভিনিউঃ সেলার যদি কোন কাজ কমপ্লিট করে, সাথে সাথেই টাকা একাউন্ট এ জমা হয় না। জমা হতে এবং সেটা উঠানোর কন্ডিশনে আসতে ১৫দিন সময় লাগে। যে সব টাকা তোলার উপযোগী, সেটাকে রিভিনিউ বলে। টাকা পেন্ডিং থাকলে সেটা ফাইভার ব্যালেন্স বলে।

সেলার লেভেলঃ লেভেল হচ্ছে, ফাইভার এ আপনার স্টাটাস বা পজিশন। ফাইভার এ একাউন্ট খোলার পর যারা গিগ দেয়, তাদের কে শুরুতে লেভেল ০(শুন্য) দেয়া হয়। আর নির্ধারিত সেল, রেভিনিউ এবং একাউন্ট এর বয়সের উপর নির্ভর করে লেভেল ১, লেভেল ২ এবং টপ লেভেল সেলার ব্যাজ দেয়া হয়। সাধারনত উপরের লেভেল এ, বেশী ক্লায়েন্ট এবং বেশী চার্জিং করা যায়। লেভেল দিয়ে ট্রাষ্টি, কোয়ালিটি বিবেচনা করা হয়। ফাইভার লেভেল নিয়ে বিস্তারিত দেখতে পারেন, ফাইভার লেভেল পেইজ এ। বায়ারদের মধ্য যারা ফাইভার এ অনেক কেনাকাটা করে, তাদের অনেক সময় টপ বায়ার নামের বিশেষ ব্যাজ দেয়া হয়।

বায়ার রিকোয়েস্টঃ কোন বায়ার যদি তার দরকারী সার্ভিস এর জন্য গিগ খুজে না পায়, তাহলে সে ছোট করে বায়ার রিকোয়েস্ট এর মাধ্যমে জব পোস্ট করতে পারে। এবং এই জব ফাইভার রিভিউ করে এপ্রুভ করলে সব সেলারদের একাউন্ট এর রিকোয়েস্ট বায়ার অপশনে দেখায়। উল্ল্যেখ্য, ফাইভার এর বায়ার রিকোয়েস্ট হচ্ছে, নতুন সেলারদের জন্য কাজ পাওয়ার অন্যতম সেরা একটা রাস্তা। এখানে বায়ার এর সাথে সরাসরি সার্ভিস অফার করার সুযোগ থাকে।

একাউন্ট ব্যানঃ ফাইভার এর টার্মস এন্ড কন্ডিশন ভায়োলেট করলে বা অনেক সময় ফাইভার টিম এর ভুলে, একাউন্ট এর সার্ভিস বা একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। অনেক সময়, অন্য বায়ার এর রিপোর্ট এবং কপি সার্ভিসিং এ একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। সাধারনত, ফাইভার এ একাউন্ট বন্ধ করে দিলে আর ফেরত পাওয়া যায় না, তবে রায়ার কেইস এ ফেরত পেলেও পেতে পারেন।

তিনটি বিষয় না জেনে কখনই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন না

ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে ১০০০/মাস ডলার ইনকাম করুন


ফাইভার এ কাজ শুরু করার আগে, এই টার্মস গুলো দেখে নিলে ফাইভার লাইফ তো সহজ হবেই, সাথে সাথে আরেকটি উপকার পাবেন। আমাদের দেশে অনেকে আছেন, যারা এই মার্কেট নিয়ে ভুল ভাল ব্যাখ্যা দেয়। তাদের এই ভুল গুলো, অজ্ঞতার কারনে অনেক বুঝেন না। Fiverr Terms in Bangla আর্টিকেল থেকে বুঝতে পারবেন। আর নিয়ম মেনে চললে, কষ্টের একাউন্ট সেইফ থাকবে সব সময়।


আসাদুল্লাহ

আসাদুল্লাহ

মোঃ আসাদুল্লাহ একজন টেক ব্লগার! টেকনোলজির বিভিন্ন বিষয়ে জানতে এবং জানাতে ভালবাসে সে! অনলাইন মেইক মানি, গ্যাজেট, ট্রিক্স, অনলাইন সিকিউরিটি নিয়ে নিজে জানার সাথে সাথে সবাই কে জানাতেই এই ব্লগ!
fiverr bangla tech alert Previous post ফাইভার মার্কেটপ্লেস | Fiverr Bangla Tutorial
Best mircophone in bangladesh Next post সেরা মাইক্রোফোন | Best Microphone In Bangladesh

4 thoughts on “ফাইভার টার্মস সমুহ | Fiverr Terms in Bangla

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close

টেক এলার্ট এর জনপ্রিয় ভিডিওঃ